ধর্ম নিয়ে রাজনৈতিক বাণিজ্য

ধর্ম নিয়ে রাজনৈতিক বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে: সাক্ষাৎকারে হাসানুল হক ইনু

সমকাল প্রতিবেদক

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছেন, সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ ও ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ অন্তর্ভুক্তি ছিল জিয়া-এরশাদের রাজনৈতিক প্রতারণা ও মোনাফেকি; যা সংবিধানের মূল কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বাহাত্তরের সংবিধানের চার মূলনীতির সঙ্গেও অসঙ্গতিপূর্ণ। সংবিধানকে এ রাজনৈতিক প্রতারণা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করা প্রয়োজন। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ধর্ম নিয়ে ‘রাজনৈতিক বাণিজ্য’ বন্ধ করতে হবে। হাসানুল হক ইনু সমকালের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ধর্ম নিয়ে ‘রাজনৈতিক বাণিজ্য’ করতে গিয়েই জিয়া-এরশাদ সংবিধানে ওই দুটি বিষয় সংযুক্ত করেন। তবে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের প্রায়োগিক পদ্ধতি কী হবে, তা সংবিধানের কোথাও কোনো শব্দ কিংবা অনুচ্ছেদ দিয়ে সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। ফলে এটি প্রকৃতপক্ষে ইসলাম ধর্মের চূড়ান্ত অপমান ও অবজ্ঞারই শামিল।
তিনি বলেন, ধর্ম নিয়ে এ ‘রাজনৈতিক বাণিজ্য’ এখনই বন্ধ না করলে তা রাজনৈতিক বাণিজ্যের উস্কানিদাতাদের আরও ইন্ধন জোগাবে। মূল কথা, পঁচাত্তরের পর যে সাম্প্রদায়িকতার বিষ সংবিধানে ঢোকানো হয়েছে, সে বিষ থেকে সংবিধানকে মুক্ত করতে হবে।
সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটির অন্যতম এ সদস্য আরও বলেন, বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রেখে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব আনা হলে তিনি সংসদ ও সংসদের বাইরে তার দ্বিমতের কথা জানাবেন।
হাসানুল হক ইনু অবশ্য ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে। তার মতে, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল থাকতে পারে। তবে চার মূলনীতির আলোকে কেউ যাতে ধর্মের অপব্যবহার করতে না পারে, তার বিধিবিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। তাছাড়া নির্বাচন কমিশনের গণপ্রতিনিধিত্ব আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনেই ধর্মের অপব্যবহার তথা মানুষে-মানুষে বিভেদ ও ঘৃণা সৃষ্টিকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল এ গণপ্রতিনিধিত্ব আইন মেনেই দলীয় গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র পরিবর্তন করে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন নিয়েছে।

‘কোনো সংসদ সদস্য একাধিক্রমে ৯০ কার্যদিবস সংসদে অনুপস্থিত থাকলে তার সদস্যপদ শূন্য হবে’_ সংবিধানে এ বিধান বহাল রাখার পক্ষেও মত দিয়েছেন তিনি। তার মতে, বিধান করে কিংবা সংসদে উপস্থিতির সময়সীমা বাড়িয়ে-কমিয়ে সংসদ কার্যকর করা সম্ভব নয়। বিএনপি-জামায়াত যেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদের বাইরে থাকার পরিকল্পনা নিয়েছে, সেখানে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ কাজ করার কথাও নয়। কাজেই এক্ষেত্রে বিধান যা আছে, তা-ই থাকুক। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী সাম্প্রদায়িক ও সামরিক শক্তির আবর্জনা থেকে সংবিধানকে মুক্ত করার বিষয়ে খালেদা জিয়া এবং বিএনপিকে রাজি করানো যায় কি-না তা নিয়ে তদবির করে দেখা যেতে পারে।
জাসদ সভাপতি বলেন, বিএনপি সংসদের বাইরে সংবিধান থেকে শুরু করে মাছের বাজার পর্যন্ত সব বিষয়েই প্রতিনিয়ত সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে গলাবাজি করছে। অথচ সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কমিটিতে হাজির হচ্ছে না। তাদের এ ‘উদ্দেশ্যমূলক অনুপস্থিতি’ ও ‘রহস্যজনক আচরণ’ প্রকারান্তরে সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে অস্বীকার ও অবমাননার শামিল।
সংবিধান সংশোধন বিষয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে ‘সমঝোতা’র সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি। তার মতে, কমিটি সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত তাদের প্রস্তাবনা তৈরির পর সংসদে উপস্থাপন করবে। সেখানে বিরোধী দলের প্রত্যেক সদস্যের এ নিয়ে আলোচনা কিংবা বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপনের সুযোগ থাকবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কমপক্ষে আরও দু’মেয়াদ বহাল রাখার পক্ষে হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থেই ২০১৪ ও ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন এ ব্যবস্থা বহাল রাখা হোক। এরপর থেকে যে নির্বাচন হবে তা সাধারণভাবেই হওয়া উচিত।
তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার কিছুটা সংশোধনও চাইছেন তিনি। তার মতে, খালেদা জিয়ার একতরফা সংসদের মাধ্যমে সংবিধানে এ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করায় কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়ে গেছে। ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো সংশোধন করে একে আরও কার্যকর ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে।
তার প্রস্তাব, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বিচার বিভাগ থেকে বের করে আনতে সব শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধি মিলিয়ে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন করে উচ্চকক্ষের প্রধানকে এ সরকারের প্রধান করা যেতে পারে। সংবিধানে বর্ণিত একাধিক ন্যায়পালকে এ সরকারের উপদেষ্টা করে সবার সম্মিলিত উদ্যোগে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে এর কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ৯০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া, সরকারের দৈনন্দিন কাজের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ ও জরুরি অবস্থা জারির ক্ষমতা থাকবে কী থাকবে না, থাকলেও কতটুকু থাকবে_ সেগুলোও সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি জানান, সংবিধান সংশোধন কমিটির সদস্যরা বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির জরুরি অবস্থা ও অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতার বিষয়টি গভীরভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখছেন। এগুলো বন্ধের বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নির্ধারণে কাজ করছেন তারা।
তিনি বলেন, ১৯৭১-এর ১৭ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রই ছিল বাহাত্তরের সংবিধান রচনা ও গণপরিষদ গঠনের মূল উৎস। এ ঘোষণাপত্রে স্বাধীনতা দিবস, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ও জাতির জনক_ এসব বিষয়ের পরিষ্কার উল্লেখ আছে। তবে বাহাত্তরের মূল সংবিধান থেকে ঘোষণাপত্রটি দুঃখজনকভাবে বাদ পড়ে যায়। এটি বাহাত্তরের সংবিধানে সংযুক্ত না করাও ছিল একটি ঐতিহাসিক ভুল। এখন সংবিধান সংশোধনের সময় ঘোষণাপত্রটি সংবিধানে সংযুক্ত করে দেওয়া হলেই সব প্রশ্নের জবাব মিলবে।

বিরোধী দলের আপত্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির অবকাশ কিংবা সুযোগ কোনোটাই নেই। কেননা ৪০ বছর ধরে আমরা ২৬ মার্চই স্বাধীনতা দিবস পালন করে আসছি; ২৭, ২৮ কিংবা ২৯ মার্চ নয়। তাছাড়া স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র মেনেই বিএনপি-জামায়াত জোট রাজনীতি করছে।
তিনি বলে, অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীদের ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ ঘোষণা করার বিধান সংবিধানে যুক্ত করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাতে গণতন্ত্র কিছুটা হলেও নিরাপদ থাকবে। এর মাধ্যমে অবৈধ ক্ষমতা দখল হয়তো বন্ধ করা যাবে না, তবে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীদের পরে বিচার করা সম্ভব হবে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেবল জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থবিল ও অনাস্থা প্রস্তাব ছাড়া বাকি সব আইন তৈরির ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের দলীয় অনুশাসনে না রেখে বিবেক অনুযায়ী ভূমিকা রাখার অধিকার দেওয়া উচিত।

বিচার বিভাগকে সংসদের কাছে জবাবদিহি করা সংক্রান্ত বিধান সংবিধানে পুনঃপ্রবর্তন নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সবকিছু বিচার-বিবেচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা। তবে দেশে সাংবিধানিক প্রাধান্য বিদ্যমান। সংবিধানের নির্দেশেই সবকিছু পরিচালিত হয়। এ সংবিধানেই সংসদ, আইন ও বিচার বিভাগের এখতিয়ার সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। এখানে কে বড়, কে ছোট_ সেটা নিয়ে বিতর্ক ও বিরোধ সৃষ্টির অবকাশ নেই।

আমিনীকে গ্রেফতার দাবি
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দ ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের জন্য ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান এবং ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির আমির ফজলুল হক আমিনীকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। আমিনী শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সমাবেশে বাংলাদেশে ২০ হাজার মাদ্রাসা রয়েছে উলেস্নখ করে বলেন, তার ডাকের সঙ্গে সঙ্গে তারা সাড়া দেবে এবং এক ঘণ্টার নোটিসে দেশ অচল করে দিতে পারে। আমিনীর এই হুমকির জবাবে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি শনিবার বাসসকে বলেন, আমিনীরা ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্ম এবং মাদ্রাসাকে ব্যবহার করছেন। তিনি বলেন, আমিনী ধর্মের কথা বলে কোমলমতি মাদ্রাসার শিশুদের বিপথে চালু করছেন। এতে পুরো মাদ্রাসা শিৰা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। খবর বাসস’র।
রাশেদ খান মেনন বলেন, ২০ হাজার মাদ্রাসা আমিনীর অধীনস্থ কোন প্রতিষ্ঠান নয়। এগুলো জনগণ এবং রাষ্ট্রের। মাদ্রাসা শিৰার জন্য বর্তমান মহাজোট সরকার যেসব পদৰেপ নিয়েছে তাতে তিনি আশা করেন, শিক্ষার্থীরাই ধর্মের অপব্যবহারকে প্রতিহত করবে এবং আমিনীর ডাকে সাড়া দেবে না। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, আমিনী এমন একটা দল করেন যা সাংগঠনিকভাবে অবৈধ।
সংবিধানের ৩৮ নম্বর ধারায় কোন ব্যক্তির ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল করার অধিকার নেই উলেস্নখ করে তিনি বলেন, আমিনীর দলের অফিস এখনও কেন তাকে তালাবদ্ধ করা হচ্ছে না এবং সংবিধান লঙ্ঘন করে রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর জন্য এখনও কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না সেটাই জনগণের প্রশ্ন। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, মাদ্রাসার ছাত্ররাও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ছিল। সেই সময়ও স্বাধীনতা বিরোধীরা তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল।
তিনি বলেন, একাত্তরে তাদের সেই ষড়যন্ত্র যেমন ব্যর্থ হয়েছিল এখনও তা হবে। তবে এ ব্যাপারে একাত্তরের মতো দলমত নির্বিশেষে সমসত্ম দেশবাসীকে আবারও রাজপথে নামতে হবে বলে তিনি উলেস্নখ করেন। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম আমিনীর এই বক্তব্যকে দুঃসাহস বললেও কম বলা হবে উলেস্নখ করে তার গ্রেফতারের দাবি জানান। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও আমিনীরা এ ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ২০ হাজার মাদ্রাসার মালিক জনগণ, সামপ্রদায়িক ধর্ম ব্যবসায়ী আমিনীরা নয়। আমিনীর নামের আগে মাওলানা শব্দটি বাদ দেয়া উচিত উলেস্নখ করে হাসানুল হক ইনু বলেন, যারা এভাবে রাষ্ট্রের বিরম্নদ্ধে হুমকি-ধমকি দেয় এবং অগণতান্ত্রিক এবং সামপ্রদায়িক কথা বলে তাদের জেলে রাখা উচিত। তিনি আমিনীর এই হুমকি-ধমকিকে ফাঁকা আওয়াজ বলে উলেস্নখ করেন।

2 thoughts on “ধর্ম নিয়ে রাজনৈতিক বাণিজ্য”

  1. ওদের রুখে দাঁড়ান এখনই – এই মুহূর্তে নারী নীতিমালার বিরোধী মৌলবাদীদের রুখে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে নারী সমাজ। একই সঙ্গে দেশ থেকে ধর্মব্যবসায়ী ও জঙ্গীবাদকে উৎখাত করার প্রত্যয় ঘোষণা করেন তাঁরা। রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচী থেকে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নারী নেতৃত্বরা এই ঘোষণা দেন। সাংসদ নাজমা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, পান্না কায়ছার, এ্যাডভোকেট তারানা হালিম, মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম, সাংসদ আমেনা বেগম, মেহের আফরাজ চুমকি, সাগুপ্তা ইয়াসমীন এমিলি, জোবেদা খাতুন, মহিলা লীগের ফারম্নল আক্তার প্রমুখ। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার শত শত নারী মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন। নারীনীতির বিরোধিতাকারীদের ধিক্কার জানিয়ে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেন, একটি গোষ্ঠী ধর্মকে নিজের করে নিয়েছে। তারা ধর্মকে ব্যবসা হিসেবে নিয়ে নারীদের বিরম্নদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ফতোয়া দিয়ে তাদের ঘরে বন্দী করে নির্যাতন করতে চায়। নারীনীতির বিরম্নদ্ধে হরতালের ডাক দেয়া ইসলামী ঐক্যজোটের আমীর মুফতি ফজলুল হক আমিনীকে উদ্দেশ করে সাজেদা চৌধুরী বলেন, মৌলবাদীর ডাকা হরতালকে দেশের মানুষ প্রতিহত করবে। কারণ তিনি যে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে দেশে জঙ্গী সৃষ্টি করছেন তা দেশের মানুষ জানে। সাজেদা চৌধুরী বলেন, এই সরকার সব সময় নারী উন্নয়নে কাজ করে। যে জন্য সরকারে থেকেও আজকে আমাদের পথে দাঁড়াতে হয়েছে। আমিনীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আমিনী যেভাবে ধর্মের দোহাই দেন সেভাবে মনে হয় তিনি ধর্মকে দখল করে নিয়েছেন। অন্য বক্তারা বলেন, আমিনীর ঢাকা হরতালকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নারীরা প্রতিহত করবে। একই সঙ্গে ফতোয়াবাজদের রম্নখে দেবে নারীরা। বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তাঁরা বলেন, একজন নারী হয়ে তিনি কিভাবে নারী আইনের বিরম্নদ্ধে হরতাল দিয়েছেন দেশের নারী সমাজের কাছে তা বোধগম্য নয়। এ সময় বক্তারা খালেদা জিয়াকে দেশের ও নারীদের শত্রম্ন আখ্যা দিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালে যে সকল স্বাধীনতাবিরোধীরা নারীদের নির্বিচারে নির্যাতন করেছে তিনি তাদের মন্ত্রী বানিয়েছেন। সেই চিহ্নিত ধর্ষণকারীদের সঙ্গে এক টেবিলে বসেন। এটা নারী জাতির জন্য কলঙ্কজনক। নারী নেতৃবৃন্দ বলেন, হরতাল আহ্বানকারীরা হরতাল সফল হওয়ার যে স্বপ্ন দেখছেন তা কখনও সফল হবে না। বরং মানুষ হরতালে থুথু নিৰেপ করবে।\

    Like

  2. গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গীরা সংগঠিত। তবে কি পরিমাণ সংগঠিত সে সম্পর্কে সঠিক কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। জঙ্গীরা যে সংগঠিত তার প্রমাণ মিলেছে গত ৪ এপ্রিলের ইসলামী আইন বাসত্মবায়ন কমিটির আমির মুফতি মাওলানা ফজলুল হক আমিনীর ডাকা হরতালে। হরতালের সময় এক হরতাল সমর্থক এক পুলিশ কর্মকর্তাকে উড়নত্ম লাথি মারে। উড়নত্ম লাথি দেয়া সেই যুবক আজও গ্রেফতার হয়নি। লাথি দেয়ার স্টাইলসহ নানা বিষয় পর্যালোচনা চলছে। পর্যালোচনায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিশ্চিত উড়নত্ম লাথি যে মেরেছে সে প্রশিৰণপ্রাপ্ত। প্রশিৰণবিহীন এমন উড়নত্ম লাথি দেয়া অসম্ভব। কওমী মাদ্রাসার ছাত্রদের এ ধরনের শারীরিক কসরত করানো হয় কি-না তার খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। তবে গোয়েন্দা নিশ্চিত উড়নত্ম লাথি দেয়া সেই যুবক প্রশিৰণপ্রাপ্ত জঙ্গী। এজন্য বিষয়টি একেবারেই স্পষ্ট যে, ওইদিন মিছিলে জঙ্গীদের রাখা হয়েছিল। যা জঙ্গীদের সঙ্গে ইসলামী আইন বাসত্মবায়ন কমিটির যোগাযোগ থাকার বিষয়টি স্পষ্ট। পুলিশের এক উর্ধতন গোয়েন্দা কর্মকর্তা না প্রকাশ না করার শর্তে জনকণ্ঠকে বলেন, হিযবুত তাহ্রীর নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে। হিযবুত তাহ্রীরকে সামনে রেখে জঙ্গী সংগঠনগুলোকে একত্রিত করার চেষ্টা করছে যুদ্ধাপরাধীদের গঠিত একটি বিশেষ বিতর্কিত ইসলামিক দল। আনত্মর্জাতিক জঙ্গী সংগঠনগুলোর নজরও হিযবুত তাহ্রীরের দিকে।হ্যাঁ, কওমি মাদ্রাসাগুলিতে নিয়মিত জুডু-ক্যারাতে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এবং তা আজ থেকে নয় বরং বছর বিশেক আগে থেকেই, স্বচক্ষে দেখা। শুধু তাই-ই নয় তাদেরকে রাইফেল চালনারও ট্রেনিং দেয়া হয় বাঁশের লাঠির ডামি দিয়ে। নিয়মিত ভাবেই এ সকল ট্রেনিং চলত আগে প্রকাশ্যে, কিছুদিনের জন্য ছেদ পড়ে- বাংলা ভাই গং এর বোমা হামলা ও ধর পাকড়ের সময়। তবে রাতের আঁধারে, আড়ালে কিংবা সুরক্ষিত আস্তানায় তা আছে অব্যহত, আজও। এদেরকে পরিচিত করানো হয় সকল আধুনিক আস্ত্র বিষয়ে, ছবির সাহায্যে, ভিডিও সিডির সাহায্যে। দেয়া হয় বিষ্ফোরকের ফর্মূলা সহ ট্রেনিং। ট্যানারি এবং এই ধরণের ইণ্ডাষ্ট্রী যেখানে প্রচুর ক্যামিকেলের ব্যবহার চলে সেই সব প্রতিষ্ঠানের অনেকের আছে জামাতের সাথে পাকা পোক্ত লিঙ্ক। মারাত্মক বিষ্ফোরক তৈরীতে যে এসিড বেশী ব্যবহৃত হয় তার মধ্যে সালফিউরিক আর নাইট্রিক এসিড খুব সহজেই এসব স্থান থেকে জঙ্গীরা পেয়েও যায়। অতএব খণ্ড খণ্ড থেকেও সব দিক থেকে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে আছে সকল জঙ্গি। সময় এলে একটি সংকেতে সব মিলে মিশে একাকার ধারণ করবে। অবশ্যই ওরা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে স্থির থেকেই অত্যন্ত ধী—রে এগুচ্ছে…………

    Like

Leave a reply to Mukthishena71 Cancel reply