Uncategorized

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ ও আমি: শামসুন নাহার, মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজ সেবিকা

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ২০২০ শেষ হলো। বাংলা ও বাঙালীর দুর্জয় আনন্দের দিন, অনন্য সাধারণ অর্জনের একটি দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গর্জে উঠেছিলেন বাংলার শার্দূল হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী আপামর জনসাধারণের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। ১০ লক্ষ জনতার সমুদ্রে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ” আর যদি একটা গুলি চলে তবে বাংলার মানুষ রুখে দাঁড়াবে। রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, বাংলার মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনসাআল্লাহ্।” সেদিনকার সেই বজ্রকঠিন ঘোষণাটি ছিল অলিখিত একটি ভাষণ। ১৯৭০ এর ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করলো আওয়ামী লীগ। সেই নির্বাচনে যুব থেকে বৃদ্ধ সাধারণ থেকে প্রতিবন্ধি প্রতিটি ভোটার স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচন কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বকে সম্মান জানিয়েছিল, বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাদের গভীর আস্থা জ্ঞাপন করেছিল। কিন্তু পাকিস্তানী জান্তা জনতার এ স্বতঃস্ফূর্ত রায় মেনে নিতে পারে নি। তারা ক্ষমতা বাংলার রাখাল রাজার হাতে ছেড়ে দিতে চায় নি। তাই মিটিং-এর নামে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর করে যাচ্ছিল। পুর্ব পাকিস্তান তখন ছাই চাপা আগুনের মতো গনগন করছে। শেখ মুজিবের একটি নির্দেশের অপেক্ষায় অধীর আগ্রহী জনগণ। অপরদিকে প্রতিপক্ষ আছে শেখ মুজিব একটি ভুল করবে, একটি ভুল নির্দেশনা দেবে প্রতীক্ষায়। তাহলেই দেশদ্রোহিতার অপরাধে জেল জুলুম নির্যাতন ও ফাঁসি দেয়ার রাস্তা অবারিত হয়ে যাবে। শেখ মুজিব তাঁর চিরদিনের সুখ দুঃখের সাথী বেগম মুজিবকে জিজ্ঞেস করলেন,” কি করবো আমি?” বেগম মুজিব বললেন,” তুমি সাহসী, বুদ্ধিমান। তোমার বিবেচনা বোধ জাগ্রত। তাই তুমি তোমার বুদ্ধিমত্তা দিয়েই কথা বলবে, নির্দেশনা দেবে।” সেদিনের সেই অলিখিত তাৎক্ষণিক ভাষণটি হয়ে গেল একটি কবিতা, একটি জাতির মুক্তির বারতা, একটি ঐতিহাসিক দলিল যা স্বীকৃতি পেলো ইউনেস্কোর প্রামাণিক দলিল হিসাবে।

১৯৭১ সালের এই দিনে আমি ছিলাম যশোর শহরের পুরাতন কসবা কাজী পাড়ায় আমার আব্বার মামা কাজি আয়নাল হকের বাড়ি। এই বাড়িতে থেকেই লেখাপড়া করি। আমি যশোর সেবা সংঘ গার্লস হাই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলাম। আমি তখন এস এস সি পরীক্ষার্থী। ২৪ এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে পরীক্ষা। স্কুল আয়োজিত বিশেষ কোচিং ক্লাশ শেষ হয়েছে।

আমার জন্ম এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে। অল্প বয়সে পিতৃহারা বাবা ২য় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। আমার দাদা যখন মৃত্যুবরণ করেন তখন আমার আব্বা মাত্র ১৪ বছরের। আমার আব্বা সবার বড়। তার ছোট আরও ৫টা ভাই বোন। তাদের দায়িত্ব এসে পড়লো আমার আব্বার ওপর। তিনি পড়ালেখা ছেড়ে চাকরি করতে গেলেন। যোগ দিলেন বৃটিশ সেনাবাহিনীতে। বৃটিশ সেনা হিসাবে তিনি ২য় বিশ্বযুদ্ধে তৎকালীন বার্মা মুলুকের রাজধানী রেঙ্গুনে অংশ নিলেন। যুদ্ধ শেষে ফিরে এসে যোগ দিয়েছিলেন সিভিল সাপ্লাইতে। এই সময় আমার মার সাথে তাঁর বিয়ে হয়।

আমার মাতৃহারা মা ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছিলেন। দুজনেই সাহিত্যিক ছিলেন। দু’জনে দু’জনের কাছে সে কি লম্বা লম্বা চিঠি লিখতেন। লেখার ভাষা ছিল প্রাঞ্জল সুপাঠ্য সরল। মনে হয় সেদিন যদি চিঠিগুলো সংরক্ষণ করতাম, তাহলে হয়তো বা আজ সেগুলো সাহিত্যের মর্যাদা পেত। যাহোক বিয়ের ৫ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও আমার মার সন্তান হচ্ছিল না। ফলে একটা সন্তানের জন্য তাঁরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ১৯৫৪ সালে আমার আব্বা তখন কুষ্টিয়ার মেহেরপুরে চাকরি করছেন। মাও আব্বার সাথে আছেন। যে বাসায় থাকতেন তার সামনেই ছিল মিশনারী হাসপাতাল। আমার মাকে পরীক্ষা করতে নিয়ে যাওয়া হলো। ডাক্তার পরীক্ষা করে দেখলেন তিনি সন্তান সম্ভবা, অর্থাৎ মায়ের গর্ভে আমার আগমন ঘটেছে। ১০ মাস ১০ দিন পর আমি ভুমিষ্ঠ হলাম।

আমি মেয়ে। সে সময় বাবা-মা মেয়ে সন্তানকে খুশি মনে গ্রহণ করতে পারত না। আমার সৌভাগ্য যে আমার মা বাবা আমাকে মেয়ে হিসাবে নয় সন্তান হিসাবে গ্রহণ করলেন। একজন ছেলেকে যে ভাবে আদর করা হয়, যত্ন করা হয়, ভালবাসা হয়, তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা হয় ঠিক তেমনি ভাবেই আমার মুক্তচিন্তার আলোকিত বাবা-মা আমাকে আদর করলেন, যত্ন করলেন, ভালবাসলেন, আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখলেন যে আমাকে লেখাপড়া শেখাবেন, ডাক্তার বানাবেন, সম্পদ ব্যক্তিতে পরিণত করবেন। আমি বড় হতে লাগলাম। আর দশটা সাধারণ মেয়ে যেমন পরিবার এবং সমাজের নিয়ম কানুনের বেড়াজালে বড় হয়, আমার আলোকিত পরিবার আমাকে তেমন কোন নিয়ম কানুন নিষেধের বেড়াজালে বদ্ধ করেননি। তাই আমি সত্যিই সৌভাগ্যবতী যে ছোট্টবেলা থেকে স্বাধীন ভাবে বেড়ে উঠেছি।

আমি আমার জীবনের এই ছোট্ট গল্পটি বললাম পাঠককে আমার বড় হওয়া, চিন্তার স্বাধীনতা, কাজের স্বাধীনতা কেমন ছিল তা জানাতে। এই জন্য সেই ছোট্ট বেলায় কিশোরী বয়সে রাজনীতিতে আমার প্রবেশ খুব সহজ ছিল। যদিও আমার আব্বার মামা অর্থাৎ আমার দাদা আমার রাজনীতিতে অংশগ্রহণ পছন্দ করতেন না, তারপরেও আমি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করি। যখন আমি নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তখন যশোর জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক জনাব রবিউল আলম আমাকে ছাত্রলীগের সদস্য করে নিলেন। আমি তখন পাকিস্তানীদের শোষণ বঞ্চনার কথা অত শত বুঝিনা। তবে নতুন কোন কাজ, মানুষকে সংগঠিত করা, সমাজসেবা এগুলো আমাকে খুব টানতো। রবিউল ভাই এবং সালেহা আপার সস্নেহ আচরণ আমার ভাল লাগতো, তাই তাদের সাথে বিভিন্ন মিছিল মিটিং-এ অংশ নিতাম। এভাবে কাজ করতে করতে কখন যেন একজন সক্রিয় কর্মী হয়ে গেলাম বুঝতে পারিনি। ১৯৬৯ এর গণ আন্দোলন, ৭০-এর উড়িরচরে ঝড়ে ভুক্তভোগীদের জন্য ত্রাণ সংগ্রহ, নির্বাচনে প্রচারণা, নির্বাচনের দিন আমাদের আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জনাব আতর আলীর পোলিং এজেন্ট হিসাবে কাজ করা, নির্বাচন পরবর্তী বিজয়ী প্রার্থী পক্ষে বিজয় মিছিলে অংশগ্রহণ ইত্যাদি কাজগুলো স্বতঃস্ফুর্তভাবে করতাম।

সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে। আমাদের সকলের সে কি উচ্ছাস। আমরা জিতেছি। এবার পাকিস্তানের সামরিক শাসক পূর্ব পাকিস্তানকে স্বায়ত্ব শাসন দেবে। সারা দেশের মতো যশোর শহরেও মিটিং মিছিল পিকেটিং চলছে। আমিও সেসব মিটিং মিছিল পিকেটিং-এ অংশ নিচ্ছি। পাকিস্তান সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য গড়িমসি করছে। আর পূর্ব পাকিস্তানের সাড়ে সাত কোটি জনগণ ফুঁসে উঠছে। শেখ মুজিব অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিলেন। তিনি হয়ে গেলেন পূর্ব পাকিস্তানের অঘোষিত রাজা। তিনি বলছেন গাড়ির চাকা ঘুরবে না, গাড়ির চাকা ঘুরছে না। তিনি বলছেন অফিস আদালত খুলবে না। অফিস আদালত খুলছে না। রাজপথ জনপথ চায়ের দোকানে, ঘরে ঘরে, হাটে বাজারে সব জায়গায় একই আলোচনা, একই উৎকণ্ঠা, কি হবে দেশের! ইয়াহিয়া কি ক্ষমতা হস্তান্তর করবে! ইয়াহিয়া যদি ক্ষমতা হস্তান্তর না করে তাহলে সশস্ত্র যুদ্ধের বিকল্প নেই। ছাত্রলীগের কর্মীরা সিদ্ধান্ত নিলো সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার। তার জন্য প্রয়োজন বন্দুক চালনা শেখা। যশোরে চিরুণী কল চত্ত্বরে খুবই গোপনে অস্ত্র চালনা প্রশিক্ষণ শুরু হলো। সেই প্রশিক্ষণে মমতাজ আপা, সালেহা আপা, সাথী আপা সহ অন্যদের সাথে আমিও অংশ নিলাম। আমার দাদা অর্থাৎ আব্বার মামা কাজি আয়নাল হক আমার প্রতিদিনের মিটিং মিছিল হরতাল অবরোধে অংশ নেয়া একদম পছন্দ করছেন না। আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন গ্রামের বাড়ি যেয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে। আমিও গ্রামের বাড়িতে যাব যাব করছি, কিন্তু যেতে মন চাইছে না।

ইতোমধ্যে ৩রা মার্চ সকাল থেকে মিছিল হচ্ছে। একটা মিছিল যশোর চৌরাস্তা থেকে শুরু হয়ে রেল রোড হয়ে টেলিফোন ভবনের সামনে দিয়ে প্রদক্ষিণ করছিল। অপর একটি মিছিল এম এম কলেজ থেকে বের হয়ে এসপি অফিস পুলিশ ব্যারাকের সামনে দিয়ে গরীব পীর সাহেবের মাজার হয়ে কালেক্টরেট ভবনের সামনে দিয়ে দড়াটানার দিকে যাচ্ছিল। অন্য আর একটি রাস্তায় অপর একটি মিছিল বের হয়েছে। যশোর শহর যেন মিছিলের শহরে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে সংবাদ এলো টেলিফোন ভবনের সামনে গুলি হয়েছে। একজন নারী মারা গেছেন। এ খবরে সকলে আরও বেশি মারমুখি হয়ে উঠলো। জোরেসোরে পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রস্তুতি শুরু হলো। এর মধ্যে ঘোষণা হলো ৭ই মার্চ রমনা রেসকোর্সে বঙ্গবন্ধু ভাষণ দেবেন।

আমাদের অনেকেই এই ভাষণ শুনতে ঢাকা যাওয়ার প্রস্তুতি নিলো। কিন্তু আমি ছোট মানুষ। আমার ঢাকা যাওয়ার সাহস নেই, সঙ্গীও নেই। বাড়ি থেকে অনুমতি দেবে না। অগত্যা যশোর বসেই ভাষণ শুনবো বলে সিদ্ধান্ত নিলাম। তখন তো এখনকার মতো এত টেলিভিশন চ্যানেল ছিল না। বাড়ি বাড়ি টেলিভিশনও ছিল না। রেডিও-র ওপরেই বেশি ভরসা। ৭ তারিখ সকালে শোনা গেল, মুজিবের ভাষণ রেডিও টিলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে না। আমরা সকলে হতাশ হয়ে পড়লাম। সেদিন আমরা সরাসরি শেখ মুজিবের ভাষণ শুনতে পাইনি। বাংলাদেশের মানুষের চাপে নতি শিকার করে পরদিন অর্থাৎ ৮ই মার্চ সেই ভাষণ রেডিও এবং টেলিভিশনে সম্প্রচার হলো। তখন আমরা সেই ভাষণ শুনলাম। ভাষণ শোনা শেষে আমার দাদা আমাকে আর যশোর শহরে থাকতে দিলেন না। আমি গ্রামের বাড়িতে আমার মা বাবার কাছে চলে গেলাম।

Uncategorized

তোমরা বেঈমানী করেছ, আমি করিনি বরং আমি তোমাদের জন্য অনেক করেছি জীবনে, জীবনের সোনালী ক্ষণ ব্যয় করেছি লীগের জন্য, স্বাধীনতার জন্য, সে স্বাধীনতা পেয়ে বাঙ্গালী কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেনি। ungratefull #আওয়ামীলীগ

Uncategorized

মুক্তির ফরিয়াদ!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি বিশেষ্য বিশেষন দিয়ে তোষামোদি করতে জানিনা। তাই সরাসরি আমার কিছু না বলা কথা এবং কিছু হতভাগা মুক্তিযোদ্ধাদের করুন ইতিহাস আপনার সদয় অবগতির জন্য মিডিয়ার সাহায্য নিতে বাধ্য হলাম।আপা, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুজিবনগরে প্রশিক্ষণ নেয়া যোদ্ধা।
স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ২রা মার্চ জাতিরজনক বংগবন্ধু/বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজুদ্দিন আহমেদ একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই ১০ মিনিটের নির্দেশে ভূমি মন্ত্রণালয়ে চাকুরী প্রদান করেছিলেন। ৭ দিন কি ৮ দিন পায়ে হেটে না খেয়ে মুজিবনগরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম একটি স্বাধীন সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নেশায়।

এ নেশা সাড়ে সাত কোটি মানুষের রক্তে মাংসে অস্তিত্বে মগজে সেলের মত বিধেছিল ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ “পশ্চিমা হানাদার বাহিনীর হাত থেকে বাংলাকে মুক্ত করতে হবে” জাতিরজনকের এই উদাত্ত আহবানে সারা দেয়া কী ভুল সিদ্ধান্ত ছিল? তাই আমি মুক্তিযোদ্ধা। নামবিহীন অস্তিত্ববিহীন মুক্তিযোদ্ধা! নাম বদলে দিলাম। মোঃ মোকতেল হোসেন থেকে নাম বদলে হয়ে গেলাম মোকতেল হোসেন মুক্তি।
পরবর্তীতে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু ১৩ই এপ্রিল ১৯৭২ সালে মন্ত্রী পরিষদ গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হলে মাদারীপুরের কৃতি সন্তান মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক খাদ্যমন্ত্রী প্রয়াত ফনি ভূষন মজুমদারের অনুস্বাক্ষরে বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবীল থেকে এক হাজার টাকার অনুমোদন (মাদারীপুর মহকুমা প্রশাসক অফিসে) এবং ৩ বান ঢেউ টিন প্রদান করেন।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের রেকর্ডে একজন মুক্তিযোদ্ধার কোটায় আমার চাকুরী হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের সচিবালয়ে আমিই ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রথম নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী ছিলাম। আমার ডিউটি ছিল জননেত্রী শেখ হাসিনার ফুফা, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি, সাবেক চীপ হুইপ আলহাজ্ব হাসনাত আব্দুল্লাহ সেরনিয়াবাত এর গর্বিত পিতা, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনি ভাইয়ের শ্বশুর, সাংসদ ব্যারিষ্ঠার তাপসের নানা সাবেক কৃষক লীগের সভাপতি ভুমি মন্ত্রী ও পরবর্তীতে পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায়।

Uncategorized

মুক্তিযোদ্ধা আত্মহত্যা করে, তোমাদের লজ্জা করে না ?

Image may contain: 1 person, text
আমরা শোকাহত আমরা লজ্জিত

গাইবান্ধায় জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর সোনার ছেলেদের একটি ছেলে আত্মহত্যা করেছে। বড়ই সুসংবাদ! এ সংবাদ বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে প্রতিক্রিয়া কি হত, জানিনা। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন বিশেষ করে মন্ত্রী পরিষদের একজন সদস্য বড় খুশি হয়েছেন, তাকে আর বিরক্ত করতে গাইবান্ধার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস আর ফিরে আসবেন না।
(ইন্নাহ লিল্লাহ——রাজিউন)
আল্লাহ্‌ আত্মহত্যা মহা পাপ, তাকে তুমি ক্ষমা করে বেহেস্ত নসীব করো আর যাদের অপমান তাচ্ছিল্য অপদস্তের কারনে ক্ষোভ দুঃখ হতাশায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মুসলিম হয়েও আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়, তাদের উপর তুমি গজব নাজিল করো। আমিন
***************
এ সব নিউজ এখন আর মনটা পীড়া দেয়না। এখন এগুলো সাদা সিদা প্রতিদিনের সংবাদের মত। মুক্তিযোদ্ধা কথাটি বলতে যেনো এখন লজ্জা করে। এক সময় খুব বলতাম। খুব গর্বিত বোধ করতাম পাশাপাশি সন্মানও পেতাম।

এখন মনে হয় জামাতের চেয়ে জঘন্য যুদ্ধাপরাধী এই মুক্তিযোদ্ধা। ক্ষোদ আ’লীগ নেতা মন্ত্রীরাই মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করছে যে আ’লীগ স্বাধীনতায় নেতৃত্ব প্রদান করেছে। শুধু তাই নয়, জাতীয় পার্টি, জামাত ও বি এন পি’র ২১ বছরের দুঃশাসন ও পরবর্তী ২০০১-২০০৬ শাসনামলে আসল মুক্তিযোদ্ধাদের উপর নির্যাতন নিপীড়ন অত্যাচার নাম কর্তন করে স্বাধীনতাকে যতটা কলুষিত কলঙ্কিত করেছে, তার চেয়ে দ্বিগুন অত্যাচার নিপীড়ন নির্যাতন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরী, সনদ ব্যবসা করেছে আ’লীগ।

এমন কি, আসল মুক্তিযোদ্ধাদের রাজাকার আল বদর আল শামস বানিয়েছে সেই ৭১ এর বঙ্গবন্ধুর আ’লীগ। আমরা ক’জন মুক্তিযোদ্ধা? মাত্র ২ থেকে ৩ লক্ষ মাত্র। অথচ এই হাতে গোনা ক’জন মুক্তিযোদ্ধার আসল তালিকা প্রণয়নে সম্পূর্ণ ব্যর্থ বিগত একটানা ১৬ বছর শাসন করা আ’লীগ। এখানে জামাত বি এন পি যে অপরাধ করেছে, তার চেয়ে ৪ গুন অপরাধ করেছে আ’লীগ নেতা মন্ত্রীরা। কেউ দেখবার নেই, কেউ শুনবার নেই। একজন শেখ হাসিনা দিয়ে দেশ চলেনা।

দেশের গোটা শাসন ব্যবস্থা, সমাজ, রাজনীতি আজ দুর্নীতি স্বজনপ্রীতি লুন্ঠন মিথ্যাচার ভ্রস্টাচারে সমৃদ্ধ। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু বলতে গেলে ৭৪ সালে এই দুর্নীতিবাজ লুটেরাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার অপরাধেই স্বপরিবারে জীবন দিয়েছিলেন। জীবন দিয়েছিলেন জাতীয় ৪ নেতা এবং খুনি জিয়ার হাতে প্রাণ দিয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা। সূতরাং শেখ হাসিনা ঠিক গর্বিত পিতার মতই আদর্শ নীতি সততা দেখাতে গিয়ে আজ গণ ভবনে মূলতঃ একাকী স্বগৃহে বনবাসের মতই জীবন যাপন করছেন। দুর্নীতি পরায়ণ গোটা প্রশাসন সমাজ শেখ হাসিনাকে গৃহবন্দী করে দেশ শাসন করছে।

প্রতিবাদ নেই, আন্দোলন নেই, নেই কোন সাধারণ জনগণের রাজনীতি ও ভোটের প্রতি এত টুকু আগ্রহ। এর মূল কারনই হচ্ছে নেতা মন্ত্রী আমলা ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার আধিকারিকদের সীমাহীন দুর্নীতি লুটপাট ও অরাজকতা।

Uncategorized

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোকতেল হোসেন মুক্তির আবেদন

Moktel Hossain Mukthi·Monday, August 5, 2019·Reading time: 1 minute6 ReadsRead more: https://muktishena71.webnode.com/ ইতিহাসের ঘৃণ্য কালো অধ্যায় ১৫ঈ আগস্টের মধ্যযূগীয় বর্বর হত্যাকান্ডের লাশ দেখে আমি পাগল হয়ে যাই। পিজি হাসপাতালে আমার ৩ মাস চিকিতসা চলে এবং সে তিন মাসের বেতন ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তন করে। এ কথা সকলেই জানেন।আমি ভারতের প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। আমার ঘরের সব কাগজপত্র আমার ভাইদের শিক্ষার সনদ, জমির দলিল দস্তাফেজ সমূহ সব মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ছিড়ে ফেলি। আমার পরিবারের সব আমি ধংস করে ফেলেছিলাম। ভুমি মন্ত্রনালয় তার প্রমান।
আমি মন্ত্রীকে এসব কথা বলাতে আমাকে অপমান করতে পারেন না। আমি প্রবাসে থাকি। আমাকে আবেদনের সুযোগ না দিয়ে অপমান করার অধিকার মন্ত্রীর নাই। তিনি আমার দরখাস্ত গ্রহন করা ও না করার অধিকার রাখেন কিন্তু মেজর জেনারেল সুবিদ আলীর নির্দেশে আমাকে অপমান করতে পারেন না। তিনি আমার আবেদনে লিখেছেন
“যেহেতু আবেদনকারী বহুবার দেশে এসেছিলেন এবং আবেদন করেন নি তাই তার আবেদন গ্রহন করা গেল না”
তিনি মেজর জেনারেল সুবিদ আলীর শিখানো কথা মত বললেনঃ ৪৫ বছর পরে মুক্তিযোদ্ধা হতে এসেছে। বের করে দেন”।
আমি মুক্তিযোদ্ধাই নই, একজন সক্রিয় আওয়ামি যোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া আমার জীবনে অন্য কোন বিষয় কাজ করেনি এবং এ মুক্তিযুদ্ধ বংগবন্ধ ও আওয়ামী লীগই আমার ধ্যান ধারনা চিন্তা চেতনা আদর্শ এ কথা প্রমান করে আমার ৬০ হাজার প্রায় লীফলেটস, ব্যানার ও পোষ্টার এশিয়ায় ইন্টারনেট চালু হবার পর থেকেই কার বিনা প্ররোচনায় করে এসেছি। শুধু তাই নয় আমি ২০০ ওয়েব সাইট ও ব্লগ মেইনটেইন করি যা’শুধু যুদ্ধাপরাধী মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ সংক্রান্ত। এ সকল ছবি ও ব্লগ/ওয়েবসাইটগুলোই প্রমান করে যে আমি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রীতিমত একজন বদ্ধ উন্মাদসম গবেষক।
Just write my name on the google search engine where you’ll get real Identity of mine “write Moktel Hossain Mukthi or muktimusician.
এ ছাড়াও আমি একজন একনিষ্ঠ অনলাইন আওয়ামী যোদ্ধা। মালদ্বীপের বঙ্গবন্ধু পরিষদ এবং আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, মালদ্বীপের মাটিতে আমিই সর্ব প্রথম মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধু এবং পাকিস্তানের ৩০ লক্ষ বাঙ্গালী হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য জনসভায় বক্তৃতা প্রদান করে পাকিস্তান হাই কমিশনের মামলা খাওয়া একজন মালদ্বীপ সরকারের শিক্ষক।
মন্ত্রী মহোদয় এ সব পরিচয় জানার পরেও বলেন নি যে আপনি বসেন বা কিছু বরং তাঁর আচার ব্যবহার এতই রুঢ় ছিল যা’ শিবির বা জামাতের কারো সাথে করছেন বলে অনুমেয়। আমার সাথে ভদ্র ভাষায় কথাও বলেন নি। এক পর্যায়ে জেনারেল সুবিদ আলীর কথায় তিনি আমাকে ঘাড় ধরে তাঁর কক্ষ থেকে বেড় করে দেয়ার কথা বলেন এবং অতঃপর………।।
তিনি মন্ত্রী না হলে হয়তো সেখানেই কোন দুর্ঘটনা ঘটে যেতো। আমি আমার নিজেকে নিয়ন্ত্রন করে চলে আসি। আমার সহযোদ্ধারা এখনো অনেকেই বেচে আছেন। ড: গোলাপ আমার সাথের একই ক্যাম্পের যোদ্ধা। আওয়ামি যোদ্ধা।
মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী সব সময় প্রচন্ড মিথ্যা কথা বলেন। যা’ মিডিয়া ও বক্তৃতায় বলেন, বাস্তবের সাথে তার কোন মিল নেই; তিনি যা বলেন সব মিথ্যা কথা মিথ্যা তথ্য। এখনো বহু আসল মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকাভুক্ত করতে পারেনি অথচ তিনি বক্তৃতায় ঘোষনা করলেন সকল জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের কথা রেকর্ড করা হবে। আসল অনেক মুক্তিযোদ্ধার নামই সংগ্রহ করতে পারেন নি-তিনি কিভাবে এ ঘোষনা প্রদান করেন?
তার দেয়া সব তথ্য জাতিকে বিভক্ত করছে; মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কলঙ্কিত হচ্ছে। নতুন তালিকা প্রণয়নের নামে এগুলো প্রতারণা। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী মিথ্যাচার করছেন। মিডিয়া, দেশবাসী এমন কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রতারণা করছেন । দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উপজেলা ও জেলাসমূহে যে দুর্নীতি চলছে, যে সনদ ও মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইয়ের নামে ব্যবসা বাণিজ্য শুরু হয়েছে তাতে আওয়ামী লীগের বিগত বছরগুলোর সকল সফলতা এমন কি মহান মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের যে অবদান সব মলিন হয়ে যাবে এই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীদের মত স্বজনপ্রীতি দুর্নীতি গ্রস্থ নেতা/কমান্ডারদের কারনে।
কারন আপনি আদর্শিক কারনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষন ও মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করছেন। সমস্ত মন্ত্রী এম পি দের তৃনমূলের সাথে কোন সম্পর্ক নেই। ক্ষমতা ও অর্থ সম্পদ শালী মধ্য শ্রেণীর নেতা যার মধ্যে অর্ধেকই প্রায় জামাত শিবির ও বি এন পি, তাদের সাথে তাল মিলিয়ে, হাত মিলিয়ে আমার মত পাগল ছাগল নিবেদিত ত্যাগি সৎ নিষ্ঠাবান অভিজ্ঞ উচিত কথাবলার প্রকৃত মুক্তিসেনাদের এভাবেই তারা অপমান তাচ্ছিল্য করে দূরে সরিয়ে রাখে। যে কারনে ছাত্রলীগের ছেলেদের সেনাবাহিনী নৌ বাহিনী বিমান বাহিনী পুলিশ বিজিবি ও অন্যান্য সরকারী ভালো পদে চাকুরী হয় না।
কারন ওরা ত টাকা দিতে পারবে না। দলীয় ছাত্র লীগের ছেলেদের নিকট টাকা চাইতেও পারে না; যদি আবার নেত্রীকে বলে দেয় বা জানিয়ে দেয়। তাই গোপনে আওয়ামী লীগের নেত্রীর বিশ্বাসী নেতাগন গোপনে চাকুরী প্রদান করে, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রীদের ভর্তির সুপারিশ ও তদবীর করে জামাত বি এন পির ছেলে মেয়েদের । কারন টাকা পাওয়া যাবে।
উত্তরা ও এয়ারপোর্ট থানা এলাকায় আমার বাস। আমার জানা মতে ঠিক আমারই মত ত্যাগি জীবনবাজী রেখে নৌকার জন্য ভোট সংগ্রহ কারীর একটি মেয়েকে বঙ্গ মাতা স্কুলে ভর্তির জন্য কি না করেছে? মায়া ভাই পর্যন্ত বিষয়টি জানতেন। সে মেয়েটি সুযোগ পায়নি; দেখা গেছে-ঢাকা এয়ারপোর্ট ও বিমানে চাকুরীরত জামাত বি এন পির ছেলে মেয়েরা অজানা রহস্যের কারনে সবাই সুযোগ পেয়ে গিয়েছে।
এর নাম স্বাধীনতা ? মুক্তিযুদ্ধ ? আওয়ামী লীগ ? এত সে বঙ্গবন্ধুর নৌকা ডুবানোর দুরদন্ত শয়তানী মাঝি খন্দকার মোস্তাক আহমেদ, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, চাষী মাহবুবুল আলম, নূরুল ইসলাম, কে এম ওবায়দুর রহমান তাহের উদ্দিন ঠাকুরদের চেয়ে একটূ কম নয়। আমিই হলাম বাঙ্গালী জাতির মধ্যে সবচেয়ে কুলাঙ্গার। ধিক্রিত অবহেলিত লাঞ্ছিত মূর্খ বেয়াকুপ বেয়াক্কেল আহাম্মদ বোকা গাধা । না পারলাম প্রাণ খুলে হাসতে না পারলাম দুটি কন্যা সন্তানকে প্রাণ খুলে হাসতে। কি লাভ হল? এ স্বাধীনতায়? যে স্বাধীনতা আমার অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দেয় না; সে স্বাধীনতাকে আমি কেন স্বীকৃতি দেব? রাষ্ট্রই যদি আমাকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়, আমি কেন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবো? কেউ দেবে না। এটাই নিয়ম, এটাই লজিক। জানি আমি এতে হবো রাষ্ট্রদ্রোহী। তাও মন্দ কী? একটা কিছু ত হবো? আওয়ামী লীগের একজন মন্ত্রী একজন মুক্তিযোদ্ধাকে ঘাড় ধরে বেড় করে দেয়?? এ স্বাধীনতার অর্থ কী? কেন পেলাম? কি আশায় স্বাধীন হলাম? কিসের নেশায় নৌকা নৌকা মুজিব মুজিব করে জীবনের শেষ অবস্থানটুকুকে ধূলিসাৎ করে দিয়ে নির্বাসিত হলাম এই দ্বীপ রাজ্য মালদ্বীপে । ভুল কোথায়? ভুল তো আছেই হয়তো জানিনা জীবনের কোথায় কোন সিদ্ধান্তে বড় রকমের ভুল ছিল। তাই ভুলের মাশুল দিয়ে গেলাম ৬৫ বছর বয়সের মুক্তিযোদ্ধা মোকতেল হোসেন মুক্তি।
📷ভুল তথ্য দিচ্ছেন। এর সমাধান চাই। এর একটি পরিস্কার ব্যাখ্যা চাই; সত্যের জয় হবে; তাই চাই; জাতিরজনকের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ ক্ষমতায় থেকে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের নিয়ে রঙ তামাশা করবে; মুক্তিযোদ্ধা নির্ধারণের নামে ব্যবসা করবে, এর জন্য যুদ্ধে যাইনি, এর জন্য ৩০ লক্ষ বাঙ্গালী শহীদ হয়নি; এর জন্য ২ লক্ষ ৪০ হাজার মা বোনের ইজ্জত হারায়নি। আসল মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাই করতে ব্যর্থ মোজাম্মেল হক।
এই মিথ্যাচারের জন্য আল্লাহ্‌ বিচার করবেন রোজ হাসরের দিন। মহান আল্লাহর বিচারে কারো হাত নেই। আল্লাহর উপরে কোন মন্ত্রী নেই; আল্লাহর উপরে বিচারক নেই; রোজ হাসরের থেকে শক্তিশালী ক্ষমতাবান কোন আদালত নেই। বহু আসল মুক্তিযোদ্ধা এখনো তালিকার বাইরে এবং এ সমস্যা আগামী ১০০ বছরেও কোন সরকার সমাধান করতে পারবে না। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কথা রেকর্ড হবে ।
মন্ত্রী নিজেও জানে না যে উপজেলা জেলা গুলোতে এই তালিকা নিয়ে কি পরিমান টাকার ছাড়াছড়ি চলছে? কি পরিমান ব্যবসা করছে নব্য থানা কমান্ডারগণ। এমন কোন উপজেলা নেই যেখানে সত্যকারের মুক্তিযোদ্ধা বাদ পড়ে নাই এবং ভূয়া মিথ্যা তথ্য প্রদানকারী মন্ত্রীর ক্ষমতা বলে নয়তো এম পির ক্ষমতা বলে অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ক্ষমতা বলে নতুন তালিকায় নাম লিখিয়েছে। এমন প্রমান আমার গ্রামে আমার ইউনিয়নে রয়েছে। আমি ত অন্যের ক্কথা শূনে এ সব লিখিনি ভাই।ফুরিয়ে যাচ্ছে ৭১ এর সোনার ছেলে মেয়েরা, বেচে থাকবে শুধু ৭১ এ জন্ম নেয়া নব্য মুক্তিযোদ্ধারা, যারা লক্ষ টাকায় মুক্তিযুদ্ধের সনদ কিনে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে। আমরা মুজিবনগরে (ভারতে) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এর চেয়ে বড় পরিচয়ের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ডঃ আব্দুস সোবহান গোলাপ ভারতের চাদপাড়া এবং পরবর্তীতে ব্যারাকপুর মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রশিক্ষণ নেয়া মুক্তিযোদ্ধা এবং আমরাও একই সময়ে একই শিবিরে একই কমান্ডারের অধীন প্রশিক্ষণ নেয়া মুক্তিযোদ্ধা। ডঃ আব্দুস সোবহান গোলাপের নাম যদি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের তালিকায় থাকতে পারে, তবে আমাদের নাম থাকবে না কেন? শুধু আমরা নই, সারা বাংলাদেশে বহু অখ্যাত অপরিচিত অশিক্ষিত অজো পাড়া গায়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বহু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম এখনো তালিকাভুক্ত হয়নি। বহু মুক্তিযোদ্ধা ইতোমধ্যেই পরলোকগমন করেছেন, কোন স্বীকৃতি ও সুযোগ সুবিধা ভোগ না করেই তারা চলে গেছেন বাঙ্গালী জাতিকে মহান স্বাধীনতা প্রদান করে। তাদের নাম কে তালিকাভুক্ত করবে? কেন একটি সঠিক তদন্ত কমিটি কর্তৃক সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করা হয়নি? এ প্রশ্ন সরকার ও দেশবাসীর কাছে। আমরা মনে করি মহান মুক্তিযুদ্ধের নেত্রিত্বদানকারী দল হিসেবে জাতিরজনক বংগবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকারের এ মহান দায়িত্ব মুক্তিযোদ্ধাদের জীবদ্ধশায় সম্পন্ন করা উচিত। সবাই শেয়ার করুন, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সত্যিকারে শ্রদ্ধা থাকে।
আমার সার্টিফিকেট দরকার নাই। কোন ভাতার দরকার নাই। আপনি মুসলমান দাবী করলে আমি কেন করবো না? আমিও তো নামাজ পড়ি? মন্ত্রী আমাকে অপমান করতে পারে না। তার চেয়ে আওয়ামী লীগের জন্য আমার অবদান সেই ৬৯ থেকে অদ্যাবধি তিল পরিমান কম নয়; বঙ্গবন্ধু আমাকে চাকুরী দিয়েছিলেন সচিবালয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। অমুক্তিযোদ্ধা ভাতা পায় এবং তা আওয়ামী লীগের আমলে এবং আওয়ামী লীগের মন্ত্রীর স্বাক্ষরে কেন? আমার কি ইচ্ছে করে না যে আমার সন্তান মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হোক। আমার সন্তানের কি ইচ্ছে করে না, তার বাবা মুক্কতিযোদ্ধা এ কথা অন্য দশজনের নিকট বলে গৌরব বোধ করতে? মন্ত্রীর ইচ্ছে মত চলতে পারে না; এ সব তথ্য নেত্রীর জানা দরকার।
নিবেদক – মোকতেল হোসেন মুক্তি, কন্ঠশিল্পী মুক্তিযোদ্ধা,
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সময়৭১।
মালদ্বীপ আওয়ামী লীগ
বঙ্গবন্ধু পরিষদ, মালদ্বীপ শাখা
সাধারণ সম্পাদক
মালদ্বীপস্থ প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটি এসোসিয়েশন
সুরকার গীতিকার ও সঙ্গীত পরিচালক
সঙ্গীত শিক্ষক
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ।

Be yourself; Everyone else is already taken.

— Oscar Wilde.

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি বিশেষ্য বিশেষন দিয়ে তোষামোদি করতে জানিনা। তাই সরাসরি আমার কিছু না বলা কথা এবং কিছু হতভাগা মুক্তিযোদ্ধাদের করুন ইতিহাস আপনার সদয় অবগতির জন্য মিডিয়ার সাহায্য নিতে বাধ্য হলাম।আপা, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুজিবনগরে প্রশিক্ষণ নেয়া যোদ্ধা।
স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ২রা মার্চ জাতিরজনক বংগবন্ধু/বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজুদ্দিন আহমেদ একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই ১০ মিনিটের নির্দেশে ভূমি মন্ত্রণালয়ে চাকুরী প্রদান করেছিলেন। ৭ দিন কি ৮ দিন পায়ে হেটে না খেয়ে মুজিবনগরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম একটি স্বাধীন সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নেশায়।

এ নেশা সাড়ে সাত কোটি মানুষের রক্তে মাংসে অস্তিত্বে মগজে সেলের মত বিধেছিল ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ “পশ্চিমা হানাদার বাহিনীর হাত থেকে বাংলাকে মুক্ত করতে হবে” জাতিরজনকের এই উদাত্ত আহবানে সারা দেয়া কী ভুল সিদ্ধান্ত ছিল? তাই আমি মুক্তিযোদ্ধা। নামবিহীন অস্তিত্ববিহীন মুক্তিযোদ্ধা! নাম বদলে দিলাম। মোঃ মোকতেল হোসেন থেকে নাম বদলে হয়ে গেলাম মোকতেল হোসেন মুক্তি।
পরবর্তীতে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু ১৩ই এপ্রিল ১৯৭২ সালে মন্ত্রী পরিষদ গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হলে মাদারীপুরের কৃতি সন্তান মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক খাদ্যমন্ত্রী প্রয়াত ফনি ভূষন মজুমদারের অনুস্বাক্ষরে বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবীল থেকে এক হাজার টাকার অনুমোদন (মাদারীপুর মহকুমা প্রশাসক অফিসে) এবং ৩ বান ঢেউ টিন প্রদান করেন।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের রেকর্ডে একজন মুক্তিযোদ্ধার কোটায় আমার চাকুরী হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের সচিবালয়ে আমিই ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রথম নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী ছিলাম। আমার ডিউটি ছিল জননেত্রী শেখ হাসিনার ফুফা, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি, সাবেক চীপ হুইপ আলহাজ্ব হাসনাত আব্দুল্লাহ সেরনিয়াবাত এর গর্বিত পিতা, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনি ভাইয়ের শ্বশুর, সাংসদ ব্যারিষ্ঠার তাপসের নানা সাবেক কৃষক লীগের সভাপতি ভুমি মন্ত্রী ও পরবর্তীতে পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায়।